মাহবুবুর রহমান রানা, (তাড়াইল,কিশোরগঞ্জ):
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব সাচাইল তানযীলুল কুরআন মাদরাসার উদ্যোগে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ-প্রদর্শনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) সকাল ১০ টায় উপজেলার পূর্ব সাচাইল তানযীলুল কুরআন মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় নূরানী, নাযেরা ও হেফজ শিক্ষার একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই মাদ্রাসা শিশুদের কুরআন শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।
তানযীলুল কুরআন মাদরাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা আবদুস সালাম এর সঞ্চালনায় উক্ত
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শায়খুল হাদীস মাওলানা বুরহান উদ্দিন দামাত বারাকাতুহুম।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সেকান্দরনগর জামিয়াতুস সুনাহ’র পরিচালক ও শায়খুল হাদীস মাওলানা ফখরুদ্দীন দামাত বারাকাতুহুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আবু সায়েম, মাওলানা আবদুল্লাহ, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, মাওলানা খায়রুল ইসলাম।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে শিক্ষকবৃন্দ, পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কুরআন তিলাওয়াত, নূরানী পদ্ধতির পাঠ, আরবি শব্দগঠন, হামদ-নাত ও ক্বিরাতসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক পরিবেশনা উপস্থাপন করে। শিশুদের সুশৃঙ্খল, সাবলীল ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনা উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে।
এ বছর অত্র প্রতিষ্ঠানের নাজেরা বিভাগ থেকে হিফজ বিভাগে উর্ত্তীণ হয়েছে ২৪ ’জন ছাত্র ও
নুরানী বিভাগ থেকে নাজেরা বিভাগে উর্ত্তীণ হয়েছে ৩৬ জন ছাত্র গৌরব অর্জন করে, যা মাদরাসার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মন্তব্য করেন অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাড়াইল তানযীলুল কুরআন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আবুল হোসাইন বলেন, তানযীলুল কুরআন মাদরাসার মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের কুরআন শিক্ষা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চারিত্রিক উন্নয়ন ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্ব দিয়ে থাকি।
সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদীস মাওলানা বুরহান উদ্দিন দামাত বারাকাতুহুম বলেন, আজকের প্রদর্শনী দেখে বুঝলাম আমাদের সন্তানরা কুরআন শিক্ষায় কতটা অগ্রগতি করেছে। এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তিনি আরও বলেন, মাদরাসার শিক্ষকরা অত্যন্ত আন্তরিক এবং পাঠদানের পদ্ধতি উন্নত। এ ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের সন্তানদের প্রতি আস্থা ও উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়। স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পুরো আয়োজনটি এলাকার ধর্মীয় ও প্রাথমিক শিক্ষার অগ্রগতিতে একটি সফল ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।