1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

একটি প‍্যারোল এবং বিবেকের কিছু প্রশ্ন

  • প্রকাশ কাল মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার পড়েছে


লেখাঃরেহানা ফেরদৌসী

মৃত স্ত্রী-সন্তানকে দেখতে কারাবন্দী জুয়েল হাসান সাদ্দামের সাময়িক মুক্তি না পাওয়া নিয়ে দেশ জুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা।জুয়েলের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তিনি সেই সুযোগ না পাওয়ায় সমালোচনা চলছে।
গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জুয়েল হাসানের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।জুয়েল-সুবর্ণা দম্পতির প্রথম সন্তানের জন্মের আগে থেকে জুয়েল কারাগারে রয়েছেন।
জুয়েলের বাড়ি বাগেরহাটে হলেও তিনি এখন আছেন যশোর কারাগারে, এবং স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। পরে স্বজনেরা গতকাল শনিবার দুপুরে মা ও সন্তানের মরদেহ যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেন, জুয়েল সেখানে স্ত্রী-সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন।
জুয়েলের স্বজনেরা দাবি করেছেন, স্ত্রী-সন্তানের জানাজায় অংশ নিতে তার প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু প্রশাসনের সাড়া মেলেনি।

তবে প্রশাসনের ব্যাখ্যা ভিন্ন।বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন বলছেন,তাদের কাছে একটি আবেদন এলেও তারা সেটি যশোরে জমা দিতে বলেছিলেন জুয়েলের পরিবারকে। যশোরের কারা কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের কাছে আবেদনটি আসেনি।
তবে এই ঘটনার পর প্যারোলে মুক্তি কীভাবে হয়, তার অনুমতি কে দেন, তা নিয়ে সবার মনেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

প্যারোল কী?
প্যারোল (Parole) হলো ফরাসি শব্দ, যার শাব্দিক অর্থ ‘কথা দেওয়া’ বা ‘প্রতিশ্রুতি’।আইন ও বিচারিক পরিভাষায় এর অর্থ, কোনো দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে তার সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই বিশেষ মানবিক কারণে বা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে কারাগার থেকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া।প‍্যারোল হলো ‘word of honor’ বা ‘সম্মানসূচক প্রতিশ্রুতি’।এটি নাগরিকের কোনো অধিকার নয়, বরং সরকারের বিশেষ প্রশাসনিক আদেশ।

বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্যারোল–সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে..বন্দীরা কারাগারে যে কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকে, সেই কারা অধিদপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।প্যারোলে মুক্তির নীতিমালা বিভিন্ন সময় হালনাগাদ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ নীতিমালাটি করা হয় ২০১৬ সালের ১ জুন। এটি এখনো কার্যকর রয়েছে বলে কারা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।জুয়েল যে জেলার কারাগারে রয়েছেন, সেই যশোর জেলা প্রশাসনের তথ্য বাতায়নে এখনো ২০১৬ সালের নীতিমালাটি পাওয়া যাচ্ছে।

প্যারোল বা অস্থায়ী মুক্তির ক্ষেত্রে কারাগারের বন্দীর প্রাথমিক মুক্তির একটি রূপ কে বোঝায়,যেখানে বন্দী তাদের মনোনীত প্যারোল অফিসারের সাথে চেক ইন সহ আচরণগত শর্তগুলি মেনে চলতে সম্মত হয়, অন্যথায় তাদের পুনরায় গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং কারাগারে ফেরত পাঠানো হতে পারে।

কখন দেয়া হয়?
প্যারোলে মুক্তি হলো এক ধরনের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি, যেখানে একজন কারাবন্দীকে নির্দিষ্ট শর্তে সাময়িকভাবে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। নিকটাত্মীয়ের মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থতা বা বিশেষ পারিবারিক প্রয়োজনে এই সুবিধা দেওয়া হয়।

কোন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে?

  • বন্দীর ভালো আচরণ
  • স্বাস্থ্যগত সমস্যা
  • পারিবারিক সমস্যা (যেমন: পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের দেখাশোনা)
  • অন্যান্য বিশেষ কারণ

কাকে দেওয়া হয়?

  • যেসব বন্দী কারাগারে ভালো আচরণ করে
  • যারা নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সাজা ভোগ করেছে
  • যাদের বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ নেই

কতক্ষণের জন্য দেওয়া হয়?
প্যারোলে মুক্তির সময়সীমা নির্ধারিত হয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা, সাধারণত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (যেমন: কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস)। শর্ত ভঙ্গ করলে পুনরায় কারাগারে যেতে হবে।প্যারোলে মুক্তি বন্দীকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিয়ে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়। এ সময় বন্দীকে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হয়, যেমন: নিয়মিত পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দেওয়া, নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া না যাওয়া ইংরেজি

প্যারোলের অনুমতি কে দেন
নীতিমালা অনুসারে কারাবন্দীদের প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের, তিনি একই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটও। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো বন্দী জেলার কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে ওই জেলার অভ্যন্তরে যেকোনো স্থানে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।অন্যদিকে কোনো বন্দী নিজ জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক না থেকে অন্য জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন।এ ছাড়া আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

বাংলাদেশে ২০১৬ সালের নীতিমালার অধীনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েদি বা হাজতিদের এই সাময়িক মুক্তি প্রদান করা হয় । ফৌজদারী কার্যবিধিতে প্যারোলে জামিন বলে কোন কথা উল্লেখ নেই। অন্তবর্তীকালীন জামিন হিসাবে ধারা৪৯৮ এর ব্যাখ্যায় প্যারোলে মুক্তির বিধান নিহিত আছে। যেমনঃ কোন আসামীর পিতা, মাতা ,জীবনসঙ্গী,সন্তান,শশুর ,শাশুড়ি,ভাই,বোন বা কোন নিকট আত্মীয় মারা গেলে তাকে জানাজায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। প্যারোলে মুক্তি বর্তমানে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার জন্য দেয়া হয়ে থাকে।

মুক্ত বন্দীর পাহারায় কে থাকে?
প্যারোলে মুক্ত বন্দীকে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখতে হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। কারা ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দীকে গ্রহণ করেন। অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই আবার কারাগারে বুঝিয়ে দেন।

**এই প্রতিবেদন প্রকাশে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন জেল পুলিশ (বাংলাদেশ)।

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST