নিজস্ব প্রতিবেদক
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের স্থাবর-অস্থাবর মিলে ৬ কোটি ৭৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯৭ টাকার সম্পদ রয়েছে। তাঁর ব্যাক্তিগত, দেনা রয়েছে ৯৪ কোটি ৬৫ লাখ ৬৫ হাজার ১১৩ টাকা। হলফনামায় আবিবা ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে এই ঋণ নিয়েছেন দেখানো হয়েছে। তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ৫৪৯ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার শহীদুল ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হলফনামায় এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন এই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনি দ্বৈত নাগরিক নন। শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস.সি পাশ উল্লেখ করা শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল পেশা হিসেবে হলফনামায় ব্যবসা দেখিয়েছেন। বয়স ৬২ বছরের বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের স্ত্রী সাথী রহমানকে গৃহিণী দেখানো হয়েছে। বড় ছেলে শেখ রাফিদ রহমানকে ব্যবসায়ী দেখানো হয়েছে। আর ছোট ছেলে শেখ রাইয়ান রহমানকে ছাত্র দেখানো হয়েছে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আয়কর বিবরণীতে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল সম্পদ দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬০ টাকা। আয়ের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ১০ হাজার ৫৪৯ টাকা। বিপরীতে তিনি ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১৮৬ টাকা আয়কর দিয়েছেন। আয়কর বিবরণীতে স্ত্রী সাথী রহমানের নামে ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৭১৯ টাকার সম্পদের তথ্য দিয়েছেন। তাঁর বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬০ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৯৩৭ টাকা। শেখ রাফিদ রহমানের সম্পদের তথ্য দেয়া হয়েছে ৪৫ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৯ টাকার। বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ২০ হাজার ২৭৭ টাকা।
সম্পদ বিবরণী অনুযায়ী, শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নগদ অর্থ রয়েছে ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬০ টাকা। তাঁর স্ত্রী সাথী রহমানের নামে নগদ অর্থ ২ লাখ ৪১ হাজার ২৩৪ টাকা। ছেলে শেখ রাফিদ রহমানের নামে ৪ লাখ ৩২ হাজার ৮৩২ টাকা নগদ অর্থ রয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নামে ট্রাস্ট ব্যাংকে ৫ লাখ ২৫ হাজার ১০৩ টাকা রয়েছে। স্ত্রী সাথী রহমানের নামে আইএফআইসি ব্যাংকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৮২৫ টাকা। ছেলে শেখ রাফিদ রহমানের নামে ট্রাস্ট ব্যাংকে ৫২ হাজার ৮৩৭ টাকা।
স্ত্রী সাথী রহমানের নামে সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেনসিতে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ টাকা। শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নামে বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল বাবদ হলফনামায় ১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেল বাবদ হলফনামায় তাঁর স্ত্রীর নামে দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
হলফনামায় শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নামে ৫৩.২ ভরি সোনা দেখানো হয়েছে। যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৫০ হাজার টাকা। স্ত্রী সাথী রহমানের নামে দেখানো হয়েছে ৯৬ ভরি সোনা। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে মূল্য অজানা। ছেলে শেখ রাফিদ রহমানের নামে রয়েছে ১০ ভরি সোনা। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে মূল্য অজানা। শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নামে ইলেকট্রনিক পণ্য দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার ও আসবাবপত্র দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আগ্নেয়াস্ত্র দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
কৃষি জমির পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬১.৬৯ একর। যার অর্জনকালীন মূল্য ১ কোটি ৬২ লাখ ২৮ হাজার ২৩৪ টাকা। অকৃষি জমি দেখানো হয়েছে ২১.৮৮ শতাংশ। যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অ্যাপার্টমেন্ট দেখানো হয়েছে ১টি। যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ৪২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের মনোনয়ন পত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরে শনিবার (১০ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির প্রথম দিনে আপিল শুনানিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল তার প্রার্থিতা ফিরে পান।