আবু হানিফ, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নির্মিত সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
বরাদ্দপ্রাপ্ত অনেকেই ঘরে বসবাস না করে অন্যত্র থাকছেন, আবার কেউ কেউ এসব ঘর ভাড়া দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২২ মার্চ পাকুন্দিয়া উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করা হয়। আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে উপজেলার নারান্দি ইউনিয়নে ৫টি, বুরুদিয়া ইউনিয়নে ৪টি, হোসেন্দী ইউনিয়নে ৫টি, সুখিয়া ইউনিয়নে ৬৭টি, পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নে ৭১টি এবং পাকুন্দিয়া পৌরসভায় ১৪টিসহ মোট ১৬৬টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতাংশ জমির দলিলসহ সেমি-পাকা ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরও অনেক সুবিধাভোগী সেখানে বসবাস করছেন না। কারও নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, কেউ আবার শহরে ভাড়া বাসায় থাকছেন। এতে করে উপজেলায় অর্ধশতাধিক আশ্রয়ণ ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিবেচনা ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনেকেই ঘর বরাদ্দ পেয়েছেন। এতে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো বঞ্চিত হয়েছেন। আবার যেসব প্রভাবশালী সুবিধাভোগী ঘর পেয়েছেন, তাদের অনেকেই ঘর ভাড়া দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় সুখিয়া ইউনিয়নের আশুতিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, ৬৭টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৪০টি ঘরেই তালা ঝুলছে। নলকূপ চুরি হয়ে গেছে, নেই বিদ্যুৎ সংযোগের মিটার। যেসব ঘরে মানুষ বসবাস করছে, তাদের মধ্যেও কয়েকজন ভাড়াটিয়া। তারা জানান, প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তরা ঘর ভাড়া দিয়ে গ্রাম কিংবা শহরে বসবাস করছেন।
বরাদ্দপ্রাপ্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় রাস্তাঘাট, বিশুদ্ধ পানি, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে। সন্ধ্যার পর মাদকাসক্তদের আনাগোনার কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। এসব কারণেই অনেকেই ঘরে তালা দিয়ে অন্যত্র বসবাস করছেন।
কিছু ফাঁকা ঘরে খড়কুটো জমিয়ে রাখা ও গরু-ছাগল বাঁধা দেখা গেছে। কোথাও কোথাও ঘরের দেয়ালে ফাটলও ধরেছে।
ঘর বরাদ্দ পাওয়া রমজান আলীর বিষয়ে তার পিতা সামসুল আলম বলেন, “ছেলে ঢাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকে। আশ্রয়ণ প্রকল্পে থাকার মতো পরিবেশ না থাকায় আমরা বাড়িতেই থাকি। মাঝে মাঝে ঘর দেখাশোনা করতে যাই।”
আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) একজন বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে মাসে ৫০০ টাকা ভাড়ায় এখানে থাকছি। প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর পাননি। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের লোকজন ঘর পেলেও সেখানে থাকেননি।”
এদিকে হোসেন্দী ইউনিয়নে বরাদ্দপ্রাপ্ত ৫টি ঘরের মধ্যে একটি ঘর দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস বলেন,
“আমি সদ্য এখানে যোগদান করেছি। বিষয়টি এইমাত্র জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকাবাসী অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বরাদ্দ বাতিল করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের মাঝে ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক- খায়রুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক - সোহেল রানা
সম্পাদকীয় কার্যালয়- ৫২২ আইনুল্লাহ স্কুল রোড, স্বল্পমারিয়া, বএিশ, কিশোরগঞ্জ।
০১৯১২৫৫০৭২৭,০১৭২৪৫৭৪২১৭
Copyright © 2026 কালের নতুন সংবাদ. All rights reserved.