নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের বর্তমান কাঠামো, স্বচ্ছতার অভাব এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার বিভেদের কারণে প্রকৃত সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে বিদ্যমান নীতিমালা সংস্কার ও পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন ছাড়া কোনো ধরনের প্রহসনের নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ময়মনসিংহে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) তারিখ বিকাল ৫টায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় নগরীর কাচারি ৪৭ রোডস্ত অস্থায়ী কার্যালয়ে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে দেড় শতাধিক সাংবাদিকের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরেই অধিকাংশ পেশাদার সাংবাদিক প্রেসক্লাব সংস্কার করে এর হারানো অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। অপরদিকে, একটি অংশ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে আইনি প্রতিকার চেয়েছে। এর ফলে প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে দখলদারিত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা ও অপেশাদার কর্মকাণ্ডের কারণে ত্রিমুখী সংকট ও স্নায়ুযুদ্ধ বিরাজ করছে।
অধিকারবঞ্চিত সাংবাদিকরা দীর্ঘ বছর ধরে সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন, সংগ্রাম, ঘেরাও, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ প্রকাশসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় অপেশাদার ও অসাংবাদিকদের সদস্যপদ বাতিল করে শুধুমাত্র পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে “প্রেসক্লাব ফর প্রেসম্যান” গঠনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাবিবা মীরার মধ্যস্থতায় আলোচনা ও সমঝোতা প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং একটি গঠনতন্ত্রের খসড়া প্রণয়ন করা হয়।
তবে দুঃখজনকভাবে আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং অসাংবাদিকদের সদস্যপদ প্রদান এবং পেশাদার সাংবাদিকদের তুচ্ছ অজুহাতে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
১৫১ সদস্যবিশিষ্ট প্রেসক্লাব সংস্কার কমিটির সভায় পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত বছর ময়মনসিংহ প্রেসকাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মাধ্যমে বিদ্যমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে লিখিতভাবে দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল সাংবাদিকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন, নীতিমালা অনুযায়ী খসড়া ভোটার তালিকা নির্ধারণ, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে একটি এডহক কমিটি গঠন এবং সম্মিলিতভাবে সাধারণ সভা আয়োজন।
বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, সাংবাদিক মোঃ আজগর হোসেন রবিন, শিবলী সাদিক খান, জহর লাল যে, মোঃ আরিফ রেওগীর, আবুল হোসাইন বিনয়, বদরুল আমীন, ইউসুফ খান লিটন, আলমগীর কবির উজ্জল, গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সজিব রাজভর বিপিন, সুমন ভট্টাচার্য্য, আশিকুর রহমান মিঠু, আবু জাফর গিফারী, আবুল হোসেন পাশা, মোঃ আজাহারুল ইসলাম, তসলিম সরকার, মীর শওকত আহসান বাবুল, মীর খালেদ হাসান, আরিফ রব্বানী, সুলতান রহমান বাপ্পী, তারিকুল ইসলাম লিটন, আজাহারুল আলম।
এ ছাড়াও বিবৃতিকালে উপস্থিত ছিলেন, সৈয়দ মোর্শেদ কামাল মিজান, আমিনুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সোহান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, দ্বীন ইসলাম, সেলিম সাজ্জাদ, আলমগীর, রনি, জুয়েল, স্বপন সরকার, জাহাঙ্গীর আলম, রোকসানা আক্তার, তাসলিমা রত্না, শিউলি রেখা, মমতাজ বেগম পপি, মোমেনা আক্তার, রাজিব সহ আরও অনেকে।