ইমরান হোসেন
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মারিয়া এলাকায় (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশন) বিসিক শিল্প-কারখানার রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বর্জ্য গিয়ে পড়ছে স্থানীয় খালে। গন্ধও ছড়িয়ে পড়ছে। এতে ওই এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে। প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দূষণের প্রভাবে নারী-শিশুসহ কয়েক শত মানুষ বিভিন্ন চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। খালের আশপাশে রয়েছে বেশ কিছু কারখানা। এসব কলকারখানা রাসায়নিক বর্জ্যে খালের পানি কালো ও বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। দূষিত পানির ঝাঁঝালো গন্ধে খালপাড়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে খালে একসময় গোসল করতো; সে খালটি হয়ে গেছে এখন মশার প্রজনন কেন্দ্র। এমন বিষাক্ত পানিকে বিসিককে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, এই খালটি বিসিক হওয়ার পূর্বে অনেক ভাল ছিল। বিসিক হওয়ার পরে এই খালটির পানি এতোই দুর্ষিত যে, দুর্গন্ধে আমরা ঘরে থাকতে পারি না। আর দুষিত হওয়ার আরো একটি কারণ হলো; এই খালের বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারে না। যাতে খালের বাঁধগুলো কেটে ফেলা হয় তার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে ওমর ফারুক সহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, এই খালে আমরা আগে গোসল করতাম। মাছ ধরতাম। কৃষকরা বোরো ধানের জমিতে পানি দিতো। কিন্তু বিসিক হওয়ার পর থেকে কারখানার বর্জ্য খালে গিয়ে নামে। এতে আমাদের এই খালের পানি বিষে পরিণত হয়েছে। ‘এলাকায় মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জমিতে ফসল হচ্ছে না। বুকভরে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। সুস্থভাবে বাঁচতে চাই।’
এ ব্যাপারে বিসিক জেলা কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো: আছাদুজ্জামান আল ফারুক বলেন, আমাদের বিসিকে যে কারখানাগুলো আছে সেগুলোতে স্বল্প পরিমাণে পানি ব্যবহৃত হয়। আমাদের এখানে একটি তোয়ালে ফ্যাক্টরী আছে। তারা ক্যামিকেলের পানিটা নিস্কাশন করে বের করে দেয়। তবে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে খালের দুষিত পানি কোথা থেকে আসে সেটি আমরা খতিয়ে দেখব।
এ বিষয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মো: মমিন ভূইয়া বলেন, ‘বিসিকে যে সকল ফ্যাক্টরী আছে সেগুলো যাতে পরিবেশের দিক থেকে কোনো প্রকার দুষণ না ছড়াতে পারে সে দিকে আমাদের মনিটরিং আছে। এখানে কিছু বেকারী ফ্যাক্টরী ও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরী আছে সেগুলোর ছাড়পত্র আছে। যেহেতু আমরা অভিযোগ পেয়েছি। আমরা পূর্ণ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব।