: ঊর্মি আক্তার মাইশা।
ঘন কালিমায় আচ্ছন্ন আকাশমণ্ডল,
শুষ্ক ধরণীর অন্তরালে নিস্তব্ধ রণক্ষেত্র।
নীরব প্রস্তরপ্রাচীরের অন্তঃস্থলে আজও ধ্বনিত হয়
রক্তধারার উষ্ণতা, মৃতদেহের মৌন আর্তনাদ।
যাহা ভূমি ছিল একদা শস্যশোভিত,
তাহা আজ লুণ্ঠনে নির্জন, নিঃস্ব।
যাহা নদী বাণিজ্য ও স্বপ্নের বাহন বহিয়া আনিত,
তাহার জলরাশি আজ লালিমায় রঞ্জিত,
রক্তক্ষয়ের ইতিহাসে আচ্ছাদিত।
বীরের গর্জন স্তব্ধ হইয়াছে শীতল তরবারির আঘাতে,
জননীর স্তনদুগ্ধ শুকাইয়া গিয়াছে আতঙ্কে,
তথাপি ইতিহাস স্থগিত নহে
সে গমন করে, নিশ্বাসে মিশিয়া থাকে,
ধূলি ও মানবছায়ার সহচরী হইয়া।
হে আগামীর সন্তান,
তুমি কি শুনিতে পাও অদৃশ্য সেই করুণ ধ্বনি?
যাহা পরাজয়ের বেদনা ও
অদম্য বীরত্বের নিশানাকে
একই মৃত্তিকায় সমাহিত রাখিয়াছে।
ইতিহাস কেবল বিজয়ের গাথা নহে
সে অশ্রুবিন্দুর, ক্ষুধার্ত শিশুর,
ভগ্ন গৃহের এবং রজনীজাগা প্রহরীরও সাক্ষ্য।