1. admin2@kalernatunsangbad.com : admin : Admin
  2. admin@kalernatunsangbad.com : Khairul Islam :
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
শিরোনাম
হোসেনপুর উপজেলা প্রশাসন দপ্তরে কর্মকর্তাদের খেয়াল খুশিমত অফিস চলে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি রাজারহাটে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত রমজানের বরকতে কবরবাসীদের জন্য মাগফিরাত কামনা কুলিয়ারচরের ফরিদপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা নূরুল মিল্লাত এঁর স্মরণে দোয়া ও ইফতার মাহফিল নারী শক্তির প্রতীক, সম্ভাবনার উৎস পলিমাটি’র উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন তাড়াইল শাখার ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে ইয়াবা ও দেশীয় অস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার কিশোরগঞ্জ ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস ইফতার ও দোয়া মাহফিল

একটি গণ আন্দোলন এবং রক্তাক্ত পুলিশ

  • প্রকাশ কাল সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫
  • ২১২ বার পড়েছে

রেহানা ফেরদৌসী

২৪ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নৃশংসতায় নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বাংলাদেশের সাবেক সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের আংশিক সদস্যগণ…আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহিংস উপাদানগুলোর পাশাপাশি, গত বছরের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় পদ্ধতিগতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সমূহের সাথে জড়িত ছিল।
২৪ এর জুলাই আন্দোলনে নির্মম ভাবে নিহত পুলিশ সদস্যের নাম, পদের নাম, মৃত্যুর তারিখ, কোন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন ও ঘটনাস্থলসহ প্রকাশ করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে ৩ জন পুলিশ পরিদর্শক, ১১ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৭ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), ১ জন এটিএসআই, ১ জন নায়েক ও ২১ জন কনস্টেবল রয়েছেন।
নিহত ৩ পুলিশ পরিদর্শক হলেন মো. আবদুর রাজ্জাক, রাশেদুল ইসলাম ও মো. মাসুদ পারভেজ ভূইয়া।
নিহত ১১ জন এসআই হলেন সুজন চন্দ্র দে, খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, রেজাউল করিম, মো. মামুনুর রশিদ সরকার, বাছির উদ্দিন, রইস উদ্দিন খান, তহছেনুজ্জামান, প্রণবেশ কুমার বিশ্বাস, মো. নাজমুল হোসাইন, আনিসুর রহমান মোল্লা ও সন্তোষ চৌধুরী।
নিহত ৭ জন এএসআই হলেন সঞ্জয় কুমার দাস, ফিরোজ হোসেন, সোহেল রানা, রাজু আহমেদ, ওবায়দুর রহমান, রফিকুল ইসলাম ও মো. মোক্তাদির।
নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্য ১ জন টিএসআই রয়েছেন। তার নাম আলী হোসেন চৌধুরী।
আরেকজন নায়েক মো. গিয়াস উদ্দিন। নিহত ২১ পুলিশ কনস্টেবল হলেন মো. আবদুল মজিদ, রেজাউল করিম, মাহফুজুর রহমান, শাহিদুল আলম, মো. আবু হাসনাত রনি, মীর মোনতাজ আলী, সুমন কুমার ঘরামী, মোহাম্মদ আবদুল মালেক, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মো. আবদুস সালেক, মো. হাফিজুল ইসলাম, মো. রবিউল আলীম শাহ, মো. হুমায়ুন কবীর, মো. আরিফুল আযম, মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. শাহিন উদ্দিন, মো. এরশাদ আলী, মাইনুদ্দিন লিটন, মো. সুজন মিয়া, মো. খলিলুর রহমান ও মো. হানিফ আলী।
তালিকার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) কর্মরত ছিলেন ১৪ জন, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার ১৫ জন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার ২ জন, কুমিল্লার তিতাস থানার ২ জন,
চাদপুরের কচুয়া থানার ১ জন, হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার ১ জন, ঢাকার এসবির ১ জন, নারায়ণগঞ্জ পিবিআইয়ের ১ জন, ট্যুরিস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের ১ জন, কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের ১ জন, কসবা থানার ১ জন, খুলনা মহানগর পুলিশের ১ জন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের ১ জন এবং ঢাকা জেলার ২ জন। নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ২৫ জন থানার ভেতর ও সামনে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন।
সবচেয়ে বেশি ২৪ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন তৎকালীন আওয়ামী সরকার ক্ষমতা ছাড়ার দিন। এর আগের দিন ৪ আগস্ট মারা গেছেন ১৪ জন।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সক্রিয় সাংবাদিক ও ভ্রমণ-সংগঠক রেদওয়ান খান তার একটি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “জুলাই আন্দোলনে নিহত পুলিশের তালিকা প্রকাশ হল, ৪৪ জন। এরা সবাই অপরাধী ছিলো, আমি সেটা মানতে নারাজ। দোষীরা সাধারণত আগেই পালায়, মারা যায় নিরীহরা। এমন অনেক পুলিশকে চিনি, চাকরি হারালে তাদের আর কোন উপায় নেই, প্রতিবাদ করার মত সাহসও ছিলোনা। অনেককে সাহায্য করেছি তখন। পরিস্থিতির কারনে অনেককেই পারিনি। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের জীবন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, পুলিশ ভাইদেরও তাই। এমন পরিস্থিতির জন্য মূল দায়ী হুকুমের আসামীরা, তাদের দলীয় রিক্রুটমেন্টগুলো, অতি উৎসাহী সদস্যরা। মাঝ থেকে মারা যাই সাধারন মানুষ, সাধারণ পুলিশ। রাঘোব বোয়ালদের সঠিক বিচারের আশায় রইলাম।”
পৃথিবীর কোথাও পুলিশ হত্যার মত ন্যাককার জনক ঘটনা ঘটেনি। তারাও রাষ্ট্রের নাগরিক। তাদের রক্তের রং লাল। দিন শেষে, ইউনিফর্মের বাহিরে তারাও কারো সন্তান, কারো ভাই, কারো জীবনসঙ্গী, কারো বাবা! দেশের সেবায় ব্রত হয়ে, সরকারি চাকরির নিয়ম অনুসারে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী…সর্বোপরি বাহিনীর “চেইন অফ কমান্ড “ পালনে বাহিনীর প্রতিটি সদস্য বদ্ধপরিকর। প্রতিটি বুলেট এর হিসেব এবং ব‍্যবহৃত স্থান থেকে শুরু করে…সকল কার্যক্রম ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। যে সকল পুলিশ সদস্যগণ নিহত হয়েছেন তারা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, পরিবারের মায়া ত‍্যাগ করে, প্রিয় সন্তানের মুখটি ভুলে… আদেশপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সকল পুলিশ এক নয়। ঠিক যেমন সকল মানুষ এক নয়। ব‍্যতিক্রম সকল পেশায় বিদ‍্যমান। পুলিশ প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। সমাজে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ জনগণের সহায়তা করে। অতি উৎসাহী, বিপদগামী পুলিশ আন্দোলন এর পূর্বেও ছিলো, এখনো আছে।
তবে সেই আংশিক সংখ‍্যার উপর নির্ভর করে সমগ্র বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক নয়। তেমনি পুলিশ বাহিনীর কাজ অন্য কোন বাহিনীর দ্বারা সম্ভব নয়।
পুলিশের প্রতি সমর্থন দেশের প্রতি ভালোবাসা॥

রেহানা ফেরদৌসী
সহ সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ।
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি( কেন্দ্রীয় পুনাক) মোহাম্মদপুর, ঢাকা

শেয়ার করুন

অন্যান্য সংবাদসমূহ


প্রযুক্তি সহায়তায় BTMAXHOST